বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বই প্রকাশ

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৬ এএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৫৪ পিএম


বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বই প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অঞ্চল অধ্যয়ন বিভাগ জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম রচিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ডিপ্লোমেটিক রিলেশনস (১৯৭২-২০২২): অ্যা নিউ প্যারাডাইম অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকাস্থ জাপানি রাষ্ট্রদূত জনাব নাওকি ইতো।

স্বাগত বক্তব্যে ইতো নাওকি উল্লেখ করেন, এই বই ভবিষ্যতে একাডেমিয়ায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখবে, বিশেষত জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তিনি এই বই লেখার জন্য লেখককে অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, বইটি বিশেষত রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অঞ্চল অধ্যয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন অধ্যয়নসহ সমসাময়িক বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালেদ বলেন, এই বইটি দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্কের বর্তমান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার উপর জোর দিয়েছে। জাপানের আশ্চর্য উন্নয়ন থেকে বাংলাদেশ শিখতে পারে, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তুপ থেকে কীভাবে এই দেশটি উন্নত হয়েছিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল অভিমত ব্যক্ত করেন যে, জাপান যেহেতু বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী এবং বাংলাদেশের মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল, ঢাকার এমআরটি লাইনসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করছে যা বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে, সেহেতু এই বই একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি বিরল একাডেমিক প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব শিবলী নোমান।

দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই বইয়ে লেখক জাপান ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস পরিক্রমা, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত প্রবণতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন। বইটির একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হল জাপানের অলৌকিক উন্নয়ন মডেলগুলো বোঝার জন্য জাপান-বাংলাদেশের ব্যাপক সম্পর্কের অন্বেষণ ও পরীক্ষা করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি উদ্যোগ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের পরিকল্পনা এবং ভিশন ২০৪১ এ তাদের প্রয়োগ করা।

লেখক বিভিন্ন অধ্যায়ে বর্তমান বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিবর্তন পর্যালোচনা করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নতির জন্য প্রাসঙ্গিক নীতি সুপারিশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অনেক গবেষক, ও শিক্ষাবিদ বিশ্বাস করেন, জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল বাংলাদেশের অনুকরণ করা উচিত। সেই সম্ভাবনা অন্বেষণ করার জন্য এই বইয়ের কয়েকটি অধ্যায়ে বাংলাদেশ-জাপানের অধিকতর কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে যা দ্বারা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আরএ/