পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫০ পিএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪১ পিএম


পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে

আমাদের দেশে পরিকল্পনা আছে তবে তার সঠিক বাস্তবায়ন আমরা দেখি না। পরিকল্পনা তৈরি করতে বেশ সময় নেওয়া হয়। নতুন ডিটেইলস এরিয়া প্ল্যানের ড্রাফট হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রায় সাত বছর লাগল পরিকল্পনা অনুমোদন করতে। এত সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে তা সাধারণত কাজের হয় না। যাইহোক, ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে। এখন এটির বাস্তবায়ন করা জরুরি। এটি যেন ঠিকঠাক মতো বাস্তবায়ন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

বাস্তবায়ন করতে গেলে জনবল লাগবে। শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল আমাদের প্রয়োজন। সেটিরও ব্যাপক অভাব আমরা দেখি। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অভাব পরিলক্ষিত হয়, সেটি হল মানুষের দক্ষতা ও নিষ্ঠা। আন্তরিকতার অভাব, একইসঙ্গে নেতৃত্বের বিরাট ঘাটতি আছে বলেও আমার মনে হয়। নেতৃস্থানীয় দক্ষ লোকের সংকট রয়েছে। রাজউকসহ অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক সমস্যা আছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র যারা আছেন, তাদের আমরা দেখি বেশ উদ্যোগী, আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। এটি অবশ্যই একটি ভাল দিক। যাইহোক, মূল কথা হলো, পরিকল্পনা অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন এটির বাস্তবায়ন করতে হবে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়নি। ডিটেইলস এরিয়া প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি কিন্তু ঠিক নয়। উচিত ছিল কাঠামোগতপ্ল্যান অর্থাৎ মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন করা। তারপর ডিটেইলস এরিয়া প্ল্যান অনুমোদন করা। তারা প্রথমটি করে নাই, দ্বিতীয়টি করেছে।

এ সব পরিকল্পনায় থাকে ভূমি ব্যবহার। এটির বিস্তার কোন দিকে হবে। প্রথম ধাপ ছিল ২০১৫ থেকে ২০৩৫। তার সাত বছর এমনিতেই চলে গেছে। এখন পরিকল্পনায় যে সুপারিশগুলো আছে, সেগুলো ভূমি ব্যবহারে কোথায় কি হবে, ভূমি উন্নয়নে আবাসনের কোথায় কি হবে, বাণিজ্যিক এলাকা কোথায় কি হবে, নতুন কিছু হবে কিনা, শিল্প এলাকা কোথায় হবে, বিনোদনের জায়গা কোথায় হবে, খোলা জায়গা কোথায় হবে, খেলার মাঠ কোথায় হবে ইত্যাদি। কতটা সবুজ এলাকা রাখতে হবে, কতটা পানি, জলাশয় রাখতে পারবে ইত্যাদি বিষয়গুলো চিন্তা করা। এগুলো সঠিকভাবে হিসাবে নিয়ে বাস্তবায়নের চিন্তা করা। পরিকল্পনায় এগুলো সবই আছে। তবে আন্তরিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামতে হবে।

রাজউকের জনবল কম থাকলে রাজউক সিটি করপোরেশনকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। শুধু ঢাকায় উত্তর দক্ষিণ নয়, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজিপুরসহ আরও অন্যান্য পৌরসভা আছে। এদেরকে নিয়ে বড় পরিসরে করতে হবে। এটি একটি বিশাল কাজ বলে আমি মনে করি। সে অনুযায়ী তারা আন্তরিকভাবে কাজে নামছে কি না সেটি অবশ্যই দেখা দরকার।

রাজউক সিটি করপোরেশনের বাইরেও যে পেশাজীবীরা আছেন, বিশেষজ্ঞরা আছেন, ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানারস, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট, বুয়েট, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি। এদের যে বিশেষজ্ঞরা আছেন, তাদের সঙ্গে বসে পরকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করা উচিত হবে। কীভাবে বাস্তবায়ন করবে,সেগুলো নিয়ে আরও ভালোভাবে একটি সার্ভে করা। আমি মনে করি এটি খুবই কঠিন কাজ এবং একইসঙ্গে এটি খুবই জরুরি কাজ। পরিবহন, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ইত্যাদি জায়গায় কি ধরনের পরিবর্তন দরকার। আমাদের কি ধরনের পরিবহন থাকবে। বহুদিন থেকে কাজ হচ্ছে। মেট্রোরেল ,বাস, নৌপথ, ট্রেন অথবা অন্যান্য সড়ক ইত্যাদির অনেক ডিটেইলস আছে। পরিবহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এজন্য এর ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকতে হবে। সুশাসন ঠিক থাকতে হবে। যা কিছু করবে সেটি সঠিকভাবে সৎভাবে করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদ

আরএ/