ডলারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো উচিত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৬ এএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪৭ এএম


ডলারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো উচিত

আমি মনে করি, বিনিময় হারের সঙ্গে ডলারের মূল্য সরাসরি জড়িত। সারা পৃথিবীতেই ডলারের মূল্য বাড়ছে। যারা বিনিময় হার ধরে রাখতে পারছে, তারা মূল্যস্ফীতি ভালো করে মোকাবিলা করতে পারবে। বাজারে মূল্য হারাতে থাকলে আমরা আরও বিপদে পড়ব। এখানে যেকোনো কারণেই হোক ডলারের দাম বাড়ছে, ডলারের দাম বেড়ে যাবে, কাজেই অনেকে এটি ধরে রাখার জন্য ডলার কিনে রাখছে। তারা বিদেশ যাক অথবা না যাক, তারা এমনিতেই ডলার কিনে রেখে দিচ্ছে। এটি গত দুই মাস আগেও ঘটেছিল।

আগে যেখানে ডলারের বিপরীতে ছিল ৮৫ টাকা এখন সেটি ১০০ টাকার উপরে হয়ে গিয়েছে। তাহলে ডলারে যেসব পণ্য আমদানি করবে সেগুলোর দাম বাড়বে স্বাভাবিকভাবেই। দাম বৃদ্ধি মানেই বাজারে তার প্রভাব পড়বে। সুতরাং আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়া মানে কস্ট অব প্রডাকশন বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে চেষ্টা করছে। আমি বলতে চাই যে, যেসমস্ত দেশ অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আমি মনে করি, সব আমদানি ডলারে করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। রাশিয়া থেকে আমদানি করা যায়, চাইনিজ কারেন্সি ব্যবহার করা যায়। এখন আমরা ডলারের দিকে তাকিয়ে থাকা মানে ডলারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। চীন অথবা রাশিয়া থেকে আমরা যদি কিছু কিনে থাকি, সেক্ষেত্রে সেই দেশের কারেন্সি ব্যবহার করতে পারি। এটি ভারতসহ অনেক দেশই করতে পেরেছে। আমরা এখনো করতে পারিনি।

আমরা যদি ভারতীয় রুপি ব্যবহার করতে পারি তারা আমাদের টাকা ব্যবহার করবে। চাইনিজ কারেন্সি বৈশ্বিকভাবেই স্বীকৃত। সমস্যা হচ্ছে সারা পৃথিবী ডলারের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরশীলতা কমানো দরকার মনে করি।

হুন্ডি একটি বড় সমস্যা বলে আমি মনে করি। হুন্ডি ও চোরাচালান একটি অন্যটির সঙ্গে জড়িত। হুন্ডির মাধ্যমেও ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এখন একজন লোক বৈধভাবে সম্পত্তি বিক্রি করেছে, সে যদি ট্যাক্স দিয়ে থাকে, তাহলে তাকে টাকা নিতে দেওয়া হোক। অন্য দেশগুলো সহজ করে দিয়েছে। আমাদের এখানে একটি নির্দিষ্ট অংকের বাইরে টাকা নিতে গেলেই সীমাবদ্ধতা আছে। যে কারণে অর্থপাচার অথবা হুন্ডির আশ্রয় নেয় অনেকেই।

আমি মনে করি, আমাদের নীতি নির্ধারকদের আরও সমৃদ্ধ হওয়া উচিত। আমাদের চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। নয়তো চোরাবালির একটি খেলা চলতেই থাকবে। অর্থ পাচার, কথিত হুন্ডির ব্যবহার, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি অথবা পুলিশ দিয়ে কথিত হুন্ডি বন্ধ করতে পারেনি। আমাদের পলিসি পরিবর্তন করতে হবে। বৈধ টাকায় বিধি-নিষেধ আরোপ করার মাধ্যমে আমরা হুন্ডি ব্যবসা ও চোরাচালান বাড়িয়ে দিচ্ছি।

আমাদের দেশে বিদেশিরা শেয়ার কিনতে পারে। লাভ হলে নিয়ে যেতে পারে। আমাদের শেয়ার বাজারে কোনো বিধি নিষেধ নেই। কিন্তু আমরা বিদেশে গিয়ে শেয়ার কিনতে পারি না। বাংলাদেশিরা এখানে বসে জুয়া খেলছে, পুলিশ ধরছে। মানুষ অসাধু পথ অবলম্বন করছে। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। ড্রাগ অথবা মদ ছাড়া সব উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বৈধ টাকা হলে কোথাও বাধা দেওয়া যাবে না। এতে অর্থনীতি উপকৃত হবে।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এসএন