রং মিশিয়ে লাল চিনি বিক্রি, ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:১১ পিএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১০ পিএম


রং মিশিয়ে লাল চিনি বিক্রি, ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সাদা চিনিতে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে ‘লাল চিনি’ নামে বেশি দামে বিক্রি করছে। বিভিন্ন কোম্পানির নাম দিয়ে সেগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারজাত করা হচ্ছে।

এসব চিনি মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকান থেকে ২০০ কেজির বেশি লাল চিনি জব্দ করে ধ্বংস করেছে।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল, সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম এবং মো. শাহ আলম।

অভিযানে কারওয়ান বাজারের কয়েকটি খুচরা দোকানে সতেজ ও গাংচিল নামে লাল চিনি বিক্রি হতে দেখে সন্দেহ হলে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পাইকারি বিক্রেতার সন্ধানে নামে ভোক্তা অধিদপ্তর। অবশেষে কারওয়ান বাজারের মেসার্স বেলায়েত স্টোরে ধরে পড়ে লাল চিনি। সেখানে অভিযান চালিয়ে ২০০ কেজির বেশি ক্ষতিকর লাল চিনি জব্দ করা হয়। এসব লাল চিনি আসল না নকল যাচাই করতে বেলায়েত স্টোরেই চিনিতে পানি দিলে চিনি থেকে রং আলাদা হয়ে যায়। আর চিনি সাদা হয়ে যায় এবং পানি কিছুটা লাল রং ধারণ করে। এসব চিনি কোথা থেকে আনা হয়েছে এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক। আবার তার কাছে কোনো ক্যাশ মেমোও পাওয়া যায়নি। তাই ক্ষতিকর এসব চিনির প্যাকেট জনসাধারণের সামনে ধ্বংস করা হয় এবং প্রতারণার অপরাধে বেলায়েত স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এ আর এন্টারপ্রাইজেও ৩৯ বস্তা লাল চিনি পাওয়া যায়। এই প্রতিষ্ঠানকে সাত দিন জনস্বার্থে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ডাকা হয়।

অভিযানের বিষয়ে আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্পের যে লাল চিনি রয়েছে তার আদলে সাদা চিনির মধ্যে টেক্সটাইল রং ব্যবহার করে লাল চিনি প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এসব চিনি যারা প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করছে তাদের নির্ধারিত কোনো ঠিকানা প্যাকেটের মোড়কে নেই। প্যাকেটে শুধু ঢাকা, বাংলাদেশ লেখা রয়েছে। এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেডএ/এসজি


বিভাগ : রাজধানী