‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদবীর সঠিক ব্যবহার চায় বিআইপি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৪ পিএম | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৩৪ পিএম


‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদবীর সঠিক ব্যবহার চায় বিআইপি

‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদবীর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান/সংস্থা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিআইপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশ দ্রুত নগরায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ন বাংলাদেশ সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াও, সরকার তার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, আমার গ্রাম, আমার শহর, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কিন্তু সরকার গৃহীত এসব কর্মসূচি পালনের জন্য সরকারি পরিকাঠামোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নগর পরিকল্পনাবিদ নেই দাবি করে বিআইপি বলছে, যার মূল কারণ নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সদিচ্ছার অভাব এবং ‘পরিকল্পনাবিদ’ পদবীর অপব্যবহার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নগর ও অঞ্চল/গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের উপযোগী হচ্ছে।

একই সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।

দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিসমূহে সকল ক্ষেত্রে ‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ পেশাজীবীর পরিষ্কার সংজ্ঞায়ন রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘পরিকল্পনাবিদ’ হতে হলে অবশ্যই নগর ও অঞ্চল/গ্রামীণ পরিকল্পনায় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর সদস্যপদ থাকতে হবে।

কিন্তু দেখা যায় যে, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও, দেশের প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কিছু ব্যক্তিদেরকে প্রতিনিয়ত ‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় যাদের আইন ও বিধিমালায় উল্লেখিত দুটো যোগ্যতার একটিও নেই।

এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ যথাযথ যোগ্যতা ছাড়াই ‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ বা ‘নগরবিদ’ বা ‘নগর বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে তাদের পরিচয় দিয়ে আসছেন, যেখানে বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্য কোথাও ‘নগরবিদ’ বা ‘নগর বিশেষজ্ঞ’ নামে কোন পদবী প্রচলিত নেই এবং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েও এ সংক্রান্ত কোন ডিগ্রী প্রদান করা হয় না।

এ সকল কারণে সকলের কাছে ‘পরিকল্পনাবিদ’ পদটির বিষয়ে একটি ভুল ব্যাখ্যা যাচ্ছে, ফলে ‘পরিকল্পনাবিদ’ পেশা ও পদবী নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। সুতরাং প্রচার মাধ্যমে বহুল মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করছি।

এ প্রেক্ষাপটে, ‘পরিকল্পনাবিদ’ পদবী ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে ‘নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি অথবা প্রেষণ বা প্রেরণের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি সমূহে উল্লেখিত সংজ্ঞার ব্যবহার্থে সরকারের অধীনস্থ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪৫টি প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থায় বিআইপি’র পক্ষ থেকে বিগত ২৮ আগস্ট ২০২২ তারিখে একটি আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিক পদায়ন ও তাদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের পরিকল্পিত অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে এবং একই সঙ্গে, দেশের ভৌতকাঠামোর সঠিক পরিকল্পনা এবং কৌশলগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে বিআইপি বিশ্বাস করে।

২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র গঠনে দেশের নগর, অঞ্চল ও গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে বলে বিআইপি বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছে বিআইপি।

আরইউ/এমএমএ/


বিভাগ : রাজধানী