রাজধানী

ঢাকার রাস্তায় চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক বাস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম

ঢাকার রাস্তায় চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক বাস
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর মাধ্যমে আধুনিক ও সাশ্রয়ী নগর পরিবহন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুক্রবার (১৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। শহরের ক্রমবর্ধমান গণপরিবহন সংকট মোকাবিলায় এবং বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের এই পদক্ষেপ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের আওতায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনা হচ্ছে এবং নির্মিত হবে ৩টি চার্জিং ডিপো। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৩৭৫ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার (বিসিএপি) ফেজ ওয়ান’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং ডিটিসিএ যৌথভাবে কাজ করবে। বিআরটিএ বাসখাত উন্নয়নের দায়িত্বে থাকবে, আর ডিটিসিএ কাজ করবে ইলেকট্রিক বাস প্রবর্তন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, কারিগরি সহায়তা, আইন ও নীতিমালা উন্নয়নে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বায়ুমান উন্নয়ন, যানজট নিরসন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই সবকিছুতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর বাস পরিচালনার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পাঁচ বছর পর সরকার এসব বাসে ভর্তুকি দেবে কি না, সে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়নি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক সতর্ক করে বলেন, নগর পরিবহনের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত না করে নতুন বিনিয়োগ করা হলে তা ব্যর্থ হতে পারে। বিনিয়োগ ছাড়াও বাস সার্ভিস চালানোর উদাহরণ থাকলেও আবার একই পথে হাঁটলে জনগণের অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি থেকে যায়।

সবকিছু মিলিয়ে এই প্রকল্প শুধু গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নয়, বরং ঢাকাবাসীর জন্য এক নতুন আশার দিগন্ত খুলে দিতে পারে। যানজট ও দূষণ হ্রাসের পাশাপাশি এটি নগর জীবনের মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।