পরিবেশ-জলবায়ু

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, দুশ্চিন্তায় উপকূলবাসী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৫, ০৩:৫৭ এএম

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, দুশ্চিন্তায় উপকূলবাসী
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৯ থেকে ৩১ মের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় মন্থা। নতুন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্যামনগরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত। আগেও কয়েকবার বেড়িবাঁধ ভেঙে ওই ইউনিয়নগুলো প্লাবিত হয়েছে। ষাটের দশকে নির্মিত এই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে আইলা, আম্পান, সিডর, বুলবুল, মহাসেন, ডানা, রেমালের মতো প্রায় ১৫টি বড় বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় শ্যামনগর উপকূলের প্রায় ২০০ মানুষ ও গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে। মৎস্য ও কাঁকড়া প্রকল্প, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষতি হয়েছে বিপুল অঙ্কের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরে মোট ১৪৫ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টের তালিকায় আছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম দুর্গা বাটি, দাতিনাখালি, আটুলিয়া ইউনিয়নের বড় কুপট, খোন্তাকাটা ও সরদারবাড়ি, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাঠি, ঝাপা, চাউলখোলা ও পশ্চিম পাতাখালি, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপালির মোমিন নগর, কৈখালী ইউনিয়নের মির্জাপুর, দক্ষিণ জয়াখালী ও জয়াখালী হুলা, মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মৌখালী গাজি বাড়ি মসজিদসংলগ্ন, হরিনগর খাদ্যগুদাম ও সিংহরতলী, গাবুরা ইউনিয়নের নেবুবুনিয়া, গাগড়ামারি ও কালিবাড়ী প্রভৃতি। আগেও পূর্ব ও পশ্চিম দুর্গা বাটি, দাতিনাখালী বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই এলাকার বেড়িবাঁধ বিপর্যস্ত হয়। মানুষের দুঃখ ও দুর্দশার শেষ থাকে না। এই মুহূর্তে শ্যামনগরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ বুড়িগোয়ালিনী। পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন না করায় বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, ‘আমাদের ত্রাণের প্রয়োজন নেই। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা গেলে উপকূলের মানুষ খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টু (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ২৭ এপ্রিল সিংহড়তলী বেড়িবাঁধ ধসে যায়। একইরকম ঝুঁকিপূর্ণ আরও তিনটি পয়েন্টে কাজ করা খুবই জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সর্দার বলেন, ‌‘যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। আমাদের জিও রোল, জিও শিট, পর্যাপ্ত লেবার, বালু বহনকারী বালগেটসহ সবকিছুই প্রস্তুত আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন বলেন, ১৫ মে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন সার্বিক বিষয় সব সময় নজরদারিতে রাখবে।’