সারাবিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, খালি করা হচ্ছে ইরাকে মার্কিন দূতাবাস


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৫, ০৬:২৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, খালি করা হচ্ছে ইরাকে মার্কিন দূতাবাস
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তাদের দূতাবাসের ‘অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ শুরু হলে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব ও তেলের বাজারের উপর এর নির্ভরতা অনেক বেশি।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে কূটনীতিক ও নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ওমানে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ষষ্ঠ দফা আলোচনা করতে যাচ্ছেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।” তিনি আরও জানান, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ৪০ মিনিটের ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ ফোনালাপ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যদি আলোচনায় ফল না আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান বসে থাকবে না। মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের প্রতিশোধের লক্ষ্য হবে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ থেকে সেনা সদস্যদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়; তেলের দাম এক লাফে ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গভীর সংকট দেখা দিতে পারে।

বৃদ্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস থেকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে মার্কিনিদের আংশিক প্রত্যাহার শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলও। এটি পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।