সারাবিশ্ব

বিহারে এনডিএ জোটের ভূমিধস জয়, মোদির নজর এবার পশ্চিমবঙ্গে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২১ পিএম

বিহারে এনডিএ জোটের ভূমিধস জয়, মোদির নজর এবার পশ্চিমবঙ্গে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি–জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিপুল জয় অর্জন করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দুই দফার ভোটের পর ২৪৩ আসনের মধ্যে জোটের দখলে এসেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন, যা তাদের একতরফা বিজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে বলেন, বিহারের এই জয় পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের ফলাফলের পথ প্রশস্ত করেছে। তিনি বলেন, “যেমন গঙ্গা বিহার পেরিয়ে বাংলায় প্রবাহিত হয়, তেমনি বিহারের এই বিজয়ও বাংলায় আমাদের জয় নিশ্চিত করবে।”

এবারের নির্বাচনে ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২টির বেশি আসন জিতেছে এনডিএ জোট। সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে বিজেপি একাই সর্বাধিক আসন পেয়েছে। মোদি দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাই আমার অঙ্গীকার, আপনাদের স্বপ্নই আমার প্রেরণা। বিজেপির শক্তি তার কর্মীদের মধ্যে নিহিত।”

মোদি আরও বলেন, মহাগাঁটবন্ধনের পরাজয় প্রমাণ করেছে যে, জনগণ সেই ‘জঙ্গলরাজ’ প্রত্যাখ্যান করেছে যা বিজেপি বারবার তুলে ধরেছে। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদেরও আহ্বান জানান এই ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ করার জন্য। মোদি মনে করান, বিহারের এই জয় শুধু বাংলায় নয়, দক্ষিণ ভারতের বিজেপি কর্মীদেরও উজ্জীবিত করবে।

দিনের শুরুতেই বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্তব্য শুরু করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী বছর বাংলায় ‘অসাধারণ’ জয় পাবে দলটি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শুকান্ত মজুমদার ‘মিশন বাংলা’ উল্লেখ করে বলেন, এখন সময় এসেছে বাংলার জঙ্গল পরিষ্কার করার।

বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস এ চ্যালেঞ্জকে বাতিল করে। দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “আসুক, দেখা যাবে।” সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করা হয়, যেখানে তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে খেলতে এলেও কিন্তু সহজ হবে না।”

তৃণমূল আরও কটাক্ষ করে জানায়, বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের রাজ্য’ বলে অপমান করার পর ক্ষমতার জন্য ভোট চাইতে আসা এবং ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে অহংকার প্রদর্শন করা লজ্জার বিষয়। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “বিহারের ফলাফল বাংলার রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাংলার মানুষ ২৫০টির বেশি আসন দিয়ে আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করবেন।”