সারাবিশ্ব
ইরানকে সমঝোতায় আসতে হবে, সবকিছু শেষ হওয়ার আগেই: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সময় শেষ হওয়ার আগেই ইরানকে সমঝোতার টেবিলে ফিরতে হবে, নইলে দেশটি আরও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে পারে।
শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, “ইরানে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ ধ্বংস ও প্রাণহানি ঘটেছে। সামনের হামলাগুলো আরও ভয়ানক হবে এবং তা ইরানের পরিণতি নির্ধারণ করে দেবে। তবে এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইরানকে অবশ্যই আলোচনায় ফিরতে হবে—সবকিছু শেষ হওয়ার আগেই। দ্রুত সমঝোতায় আসুন। আর কোনো মৃত্যু নয়, আর কোনো ধ্বংস নয়। ঈশ্বর আপনাদের রক্ষা করুন।”
এর একদিন আগেই, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশটি আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরবে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ আটটি শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যে নেওয়া হয়—যার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০।
এই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, পরমাণু বিজ্ঞানী ফেরেয়দুন আব্বাসি ও মোহাম্মদ তেহরানচি।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই সামরিক অভিযান মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যেই চালু করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি। যতক্ষণ না ইরানি হুমকি নির্মূল হচ্ছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ইরানি সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল জারি করেছে জরুরি সতর্কাবস্থা।