তাজরীন ট্র্যাজেডি: ৬ পুলিশসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৫৭ পিএম | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৮ এএম


তাজরীন ট্র্যাজেডি: ৬ পুলিশসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস নামের পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হন, যাদের প্রায় সবাই ওই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। এতে আহত ও দগ্ধ হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক। তাজরীন ট্র্যাজেডির মামলা দিন-মাস-বছর গড়িয়ে এক দশক, তারপরও শেষ হয়নি বিচার!

এই মামলার ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১১ জন। সাক্ষ্য দিতে না আসায় ছয় পুলিশ সদস্যসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও সাক্ষীরা আদালতে হাজির হচ্ছেন না। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলা শেষ করতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। এ অবস্থায় আলোচিত এ ঘটনার মামলা শেষ হতে আর কতদিন লাগবে জানে না কেউ। বার বার আদালত থেকে সমন পাঠানোর পরও ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হননি।

এদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য, যারা এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। আলোচিত এ মামলার সাক্ষীদের এমন আচরণে হতাশ রাষ্ট্রপক্ষ। আলোচিত ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ চলছে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সাত বছর পার হয়েছে। এ সময়ে ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১১ জন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হচ্ছেন না। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলা শেষ করতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। অনেকটা একই অভিযোগ আসামিপক্ষেরও।

অবশ্য, এই বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ কে এম শাহনেওয়াজ বলেন, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে দায়ের করা মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মামলার ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ছয় পুলিশ সদস্যসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

তিনি বলেন, ‘জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হচ্ছেন না। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটি শেষ করা যাচ্ছে না। সাক্ষীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেন না। মামলার সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীদের কোনো আগ্রাহই যেন নেই।’

আদলতের মতে, সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় মামলাটি গতি পাচ্ছে না। মামলাটি দ্রুত শেষ হলে ন্যায়-অন্যায় আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, আলোচিত এ মামলায় ২০১৬ সালে ৫ জন, ২০১৭ সালে দুজন, ২০১৯ ও ২০২১ সালে একজন করে মোট দুজন এবং ২০২২ সালে এ পর্যন্ত দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০১৮ ও ২০২০ সালে কোনো সাক্ষ্য হয়নি। চলতি বছরের ৪ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ছিল। তবে ওইদিন সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী বছরের ১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

বার বার আদালত থেকে সমন পাঠানোর পরও ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হননি। এদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যারা এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ছয় পুলিশ সদস্যসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এরপরও তারা আদালতে উপস্থিত হননি বা তাদের গ্রেপ্তার করে সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। আলোচিত এ মামলার সাক্ষীদের এমন আচরণে হতাশ রাষ্ট্রপক্ষ।

জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ছয় পুলিশ সদস্য হলেন-ঘটনার (অগ্নিকাণ্ডের) সময়ের আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক এস এম বদরুল আলম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল, উপ-পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মো. রবিউল আলম ও এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া, জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য ২০ সাক্ষী হলেন -আশুলিয়ার বাসিন্দা মো. মঞ্জুর আলম, তাজরীন ফ্যাশনসের কর্মচারী চায় না বেগম, ধলা মিয়া, আকলিমা, রাবেয়া খানম, আরিফা, নূরজাহান, মো. আকাশ, মো. শাহীন, শামীম, মো. মোক্তার, মো. আলম, মোছা. পারভীন, মোর্শেদা বেগম, শ্যামলী আক্তার, মমিনুর রহমান, আলেনুর, রমেসা বেগম, আরফুজা বেগম ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মো. আলী হোসেন।

কেএম/এমএমএ/


বিভাগ : আইন আদালত