আইন আদালত

সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ৪ দিনের রিমান্ডে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১০:৩০ এএম

সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ৪ দিনের রিমান্ডে
সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ৪ দিনের রিমান্ডে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তোলা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম এই মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে, আর আসামিপক্ষ জামিন প্রার্থনা করে। শুনানি শেষে আদালত মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার (১২ মে) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এই মামলার ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, মমতাজ বেগম তার জনপ্রিয়তা ও কণ্ঠের প্রভাবকে ব্যবহার করে সরকার দলীয় প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি গান গেয়ে, শেখ হাসিনাকে গানে প্রশংসা করে, একনায়কতান্ত্রিক শাসনকে উসকে দিয়েছেন। পিপি আরও অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও মমতাজ বেগম পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনাকে উজ্জীবিত করেছেন এবং এই আন্দোলন দমনেও ভূমিকা রেখেছেন।

অন্যদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সাগর নামে এক আন্দোলনকারী বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে মারা যান। তার মা বিউটি আক্তার রাতভর ছেলের খোঁজ করে পরদিন ভোররাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাশের সন্ধান পান।

ঘটনার চার মাস পর, গত ২৭ নভেম্বর নিহতের মা মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ২৫০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সেই মামলায় মমতাজ বেগম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হন।