পেঁয়াজের খোসার নানা ব্যবহার

০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৫ এএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:১০ পিএম


পেঁয়াজের খোসার নানা ব্যবহার

দুর্মূল্যের বাজারে কোনো কিছুই নষ্ট করা যাবে না। এতে যেমন খরচ বাঁচবে, তেমনি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বাস্তবায়নও সম্ভব। অনেক কিছুই আমরা উচ্ছিষ্ট মনে করে ফেলে দিই। কিন্তু সব কিছুই ফেলনা নয়। অনেক উচ্ছিষ্টই আমরা কাজে লাগাতে পারি। যেমন সবজি ও ফলমূলের খোসা। কোনোটি খাদ্যপণ্য হিসেবে, কোনোটি রূপচর্চায় ব্যবহার করা সম্ভব। আবার কোনোটির রয়েছে ওষুধি গুণও। ঠিক তেমনই একটি জিনিস পেঁয়াজের খোসা। উপায় জানা থাকলে এই পেঁয়াজের খোসা থেকেই মিলতে পারে হরেক উপকার। চলুন জেনে নিই পেঁয়াজের খোসার নানা ব্যবহার-

* রূপচর্চায় পেঁয়াজের খোসার জুড়ি নেই। পাকা চুলের কৃত্রিমভাবে রঙ না করে ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের খোসা। একটি শুকনো লোহার কড়াইতে পেঁয়াজের খোসাগুলি নিয়ে মধ্যম আঁচে সেঁকতে থাকুন। একেবারে কালো হওয়া পর্যন্ত গরম করুন। ভাজা হয়ে এলে খোসা একেবারে গুঁড়ো করে নিন। এই গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ নারকেল তেল কিংবা অ্যালো ভেরার শাঁস মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কলপ।

* পেঁয়াজের খোসায় রয়েছে ভিটামিন এ-সহ আরও বেশ কিছু উপাদান, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া নিয়মিত পেঁয়াজের খোসা যুক্ত চা খেলে ত্বকের শুষ্কতাও দূর হয়। পেঁয়াজের খোসা ত্বকের নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে।

* পেঁয়াজের খোসা জলে সেদ্ধ করে সেই জল দিয়ে চুল ধুলে চুলের বৃদ্ধি ঘটে। মাথার খুশকির সমস্যাও দূর হয়। পেঁয়াজ ও খোসা দুটিতেই সালফারের পরিমাণ অনেকটা বেশি। চুলের বৃদ্ধিতে সালফার খুবই উপকারী। তা ছাড়া সপ্তাহে তিন-চার দিন এই পেঁয়াজের খোসা সেদ্ধ জল দিয়ে চুল ধুলে চুল ঘন ও কালো হয়।

* পেঁয়াজের খোসার রয়েছে ওষুধি গুণও। ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকে প্রায়ই সর্দি, কাশি, জ্বরে ভুগে থাকেন। পেঁয়াজের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভাইরাসজনিত সমস্যা এড়াতেও পেঁয়াজের খোসা খুবই কার্যকরী। পেঁয়াজের খোসা মেশানো চা গলা ব্যথার সমস্যাও দূর করে।

* পায়ে ব্যথার সমস্যা কিংবা পায়ের পেশীতে টান লাগলে তা থেকে মুক্তি পেতে পেঁয়াজের খোসা সেদ্ধ করে সেই জলটি খেতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে মেশাতে পারেন মধু।

* ঘুমের সমস্যা নিরাময় করতেও অনেকে পেঁয়াজের খোসা ব্যবহার করেন। পেঁয়াজের খোসায় থাকে এল-ট্রিপটোফ্যান নামে এক প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড। এটি অনিদ্রা কাটাতে সহায়তা করে বলে মনে করেন অনেকে। তাই সন্ধ্যাবেলা কয়েকটি পেঁয়াজের খোসা গরম জলে ফুটিয়ে তা চায়ের মতো করে পান করতে পারেন। এই পানীয়তে গাঁটের ব্যথাতেও আরাম মিলতে পারে। তবে যেকোনও খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে।

* সার হিসেবেও দারুণ কার্যকর পেঁয়াজের খোসা। সরাসরি গাছের গোড়ায় ছড়িয়ে দিতে পারেন পেঁয়াজের খোসা।

* কীটনাশক হিসেবেও কাজ করে পেঁয়াজের খোসা। অনেক সময়ে ছাদ-বাগানের গাছের মধ্যে পোকা ধরে যায়। এই ধরনের পোকা গাছের পাতাগুলিকে খেয়ে নেয়। ফলে দ্রুত গাছের পাতা শুকিয়ে যায় বা মরে যায়। পেঁয়াজের খোসা গুঁড়ো করে, তার সঙ্গে কিছুটা পানি মিশিয়ে নিন। পোকা লাগা পাতায় স্প্রে করতে পারেন।

এসএন