লাইফস্টাইল
ননস্টিক প্যানে রান্না বাড়ায় ক্যানসারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি
ননস্টিকের জিনিসে রান্না করতে যেমন আরাম আবার সময়ও লাগে কম। এজন্য বর্তমানে আধুনিক রান্নাঘরে ননস্টিক প্যান বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান।
কিন্তু প্রচলিত ননস্টিক পাত্রগুলোতে এমন উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যার কারণে এসব পাত্রের ভুল ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি হতে পারেন ক্যান্সারে আক্রান্ত।
ননস্টিকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মারণ রোগ ক্যান্সারের বিষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ননস্টিকে যে টেফলনের প্রলেপ থাকে তা থেকেই শরীরে বাসা বাঁধছে হাজারো রোগ। ননস্টিকের জিনিস এজন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।
ননস্টিকের সমস্ত পাত্রই টেফলন দিয়ে তৈরি করা হয়। এই টেফলন আসলে ‘পলিটেট্রা ফ্লোরো ইথিলিনে’-এর কোটিং। কোটিং এর খরচ কমাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টেফলনের সঙ্গে ‘পারফ্লোরোঅক্টানয়েট’ অ্যাসিড’- পলিমার দিয়ে প্রসেস করা হয়। ফলে উচ্চ তাপমাত্রায় ননস্টিকের পাত্রে রান্না করা হলে কিংবা পাত্রটি খুব তেতে গেলে ধোঁয়া উঠতে থাকে। এই ধোঁয়া খুবই মারাত্মক। যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রক্তের সঙ্গে মেশে। আর যা কার্সিনোজেনিক।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে কম তাপে রান্না করা ভালো। তবে শুধু যে ননস্টিক পাত্র থেকেই আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তা কিন্তু নয়। রান্নার আরো অনেক জিনিস থেকেই এই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ননস্টিক পাত্রে বেশি তেল দিয়ে রান্না কিংবা কিছু ভাজলে, সেই তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। প্রায় ২০০-২৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রা হয়ে যায়, ঘি দিয়ে কিছু ভাজলে তাপমাত্রা ৪০০ ডিগ্রির বেশি উঠে যায়। তাপমাত্রার বৃদ্ধি বেশিরভাগ সময়ই আমরা বুঝতে পারি না। ফলে এই পাত্রের কোটিং বাষ্পীভূত হয়ে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে। রান্নার উপাদান বা খাবারে এই গ্যাস মিশে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের খুব চুল ওঠে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের পিএফওএ পজেটিভ, টেফলনের পাত্র ব্যবহার করেন যারা তার ৬৫ শতাংশই হাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভোগেন, মহিলাদের ৭০ শতাংশ আশংকা থাকে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার।
ননস্টিকের পাত্রে তেল কমে বেশি ভাজা যায়- এই ভেবে বেশি ভাজাভুজি খাবার এই পাত্রে খেলে সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ে। প্রয়োজনে অল্প তেলে সাধারণ কড়াইয়ে ভাজলে উপকার। খুব কড়া করে ভাজতে ও ননস্টিকের পাত্রে স্টিলের হাতা খুন্তি দিয়ে রান্না করলে বিপদ বাড়ে। এক্ষেত্রে পিএফওএ প্রলেপ খুব সহজেই খাবারে মেশে। দীর্ঘদিন ধরে এই পাত্রের ধোঁয়া ইনহেল করলে, হঠাৎ করে জ্বরের প্রবণতা বেড়ে যায়।
এটি ভয়ঙ্কর রোগের পূর্বাভাস। এই পলিমারের প্রলেপ এক ধরনের অর্গানিক অ্যাসিড। যা নার্ভের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হঠাৎ করে মনসংযোগের অভাব, স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ননস্টিকের পাত্র চার-পাঁচ বছর টানা ব্যবহার করলে ক্ষতি বেশি।
ননস্টিক প্যানের চেয়ে লোহার পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ। এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কম থাকে। এছাড়া চিনা সিরামক স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। সিরামিকের তৈরি কাপ, প্লেট ইত্যাদি জিনিসগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আপনি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে সিরামিক কাপে চাও বানাতে পারেন।