‘শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের অভাবনীয় সাফল্য’

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩২ পিএম | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৩ পিএম


‘শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের অভাবনীয় সাফল্য’

শিক্ষাবান্ধব উন্নত পরিবেশে পাঠদানের লক্ষ্যে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধন করেছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং সেল গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নামে নামকরণ করা হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, সম্প্রসারণ, সংস্কার, মেরামত ও আসবাবপত্র সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া, এ অধিদপ্তর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার কার্যালয়ের নির্মাণ কাজও করে থাকে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত স্থাপনাসমূহের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ, টেক্সটা বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিটে অন্যতম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ এবং এসডিজি এর অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী টেকসই, আধুনিক, পরিবেশ-বান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ করে চলেছে যাতে শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিযোগিতা-পূর্ণ বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন উপযুক্ত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিগত এক যুগের অধিক সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।

এ সময়ের মধ্যে শিক্ষাবান্ধব উন্নত পরিবেশে পাঠদানের লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৮ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১৮ হাজার ৩৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছে যেখানে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৭০৯টি শ্রেণীকক্ষে ৫৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশব্যাপী গুণগত শিক্ষার প্রসার ঘটছে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের ১৩ বছরে ১৫ হাজার ১৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ২ শত ৩০ কোটি টাকার মেরামত ও সংস্কার কাজ এবং ৪ হাজার ৪৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪৮ কোটি টাকার আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মিত ভবনসমূহে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ওয়াস ব্লক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প ও সহায়ক ওয়াসরুম রয়েছে। ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় যেমন- হাওড়, বিল এবং বন্যাপ্রবন/ কোষ্টাল ও দুর্গম এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র কাম শ্রেণিকক্ষ, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস প্রতিরোধ উপযোগী ভবন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা সহনীয় পরিবেশ উপযোগী করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

এ সব শিক্ষা অবকাঠামোসমূহে শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তার জন্য এ সময়ের আলোচিত বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া, ভবনসমূহে প্রশস্ত সিঁড়ি, বারান্দা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য গুলগুলি রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক সব দরপত্র ই-জিপির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এর ফলে ক্রয় কার্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে, দরপত্র কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক ঠিকাদারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যা দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৭ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯১৬টি স্কুল, ৮১টি কলেজ এবং ১০০টি মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণসহ ৩ হাজার ৮৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় মিত এ সব ভবনসমূহের মধ্যে নির্বাচিত ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০টি ভবন (৪২টি স্কুল, ২১টি কলেজ, ২৬টি মাদ্রাসা এবং টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ) এবং ৩টি ছাত্রী হোস্টেল (প্রতিটি ১৩২ শয্যা), ২টি ছাত্র হোস্টেল নির্মিত হয়েছে।

এসএম/আরএ/


বিভাগ : জাতীয়