প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে

২০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৫ পিএম | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৩ পিএম


প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে

বইমেলার প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। এবছরও ফেব্রুয়ারি মাসেই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিগত কয়েক বছর করোনা মহামারির কারণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে নানারকম বিঘ্ন পেরোতে হয়েছে আমাদের। এ বছর বেশ ভালোভাবেই আমরা বইমেলা আয়োজন করতে পেরেছিলাম এবং আমরা সফলও হয়েছিলাম। আগামীতেও বইমেলা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব সে বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

তবে বর্তমানে আমাদের জন্য নতুন সংকট হলো কাগজের দাম বৃদ্ধি একইসঙ্গে কাগজের অপর্যাপ্ততা। নভেম্বর-ডিসেম্বর এই সময় বাজারে কাগজ পাওয়াই দুস্কর হয়ে পড়ে। কারণ স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের চাপ থাকে। করপোরেট অফিস থেকে ক্যালেন্ডারসহ কার্ড ইত্যাদি তৈরির চাপ থাকে। তা ছাড়া নভেম্বর-ডিসেম্বর মানেই বিভিন্ন রকম উৎসব আয়োজনের মাস। কাজেই কাগজের সংকট হবে স্বভাবতই, একইসঙ্গে দামও বেড়ে যাবে। সরকার যদি কাগজের উপর থেকে ট্যাক্স কমিয়ে দেয় তাহলে কাগজের দাম কমবে।

আমরা যারা প্রকাশক বিশেষ করে সৃষ্টিশীল বই ছাপিয়ে থাকি, আমাদের উদ্দেশ্যই থাকে বইয়ের দাম যেন পাঠকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। অর্থাৎ কাগজের দাম বাড়লেও বইয়ের মূল্য আমরা নির্ধারণ করার চেষ্টা করি পাঠকের কথা ভেবেই। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে আমাদের অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অনেক প্রকাশক বই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চিন্তা করছে। কারণ বই বিক্রি করে লাভের আশা দূরে থাক নিজের পকেট থেকে আর কত ভর্তুকি দেবে? এ বছর বইয়ের সংখ্যাও কমে যাবে অনেক। ধারণা করা হচ্ছে এটি অর্ধেকে নেমে আসবে। গত বছর প্রায় পাঁচ হাজার বই প্রকাশিত হয়েছিল। এ বছর দু’ হাজার প্রকাশিত হবে কি না সন্দেহ আছে। খুবই দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই যে, বাজারে নিত্যপণ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে গেলে এমনকি শাকের দাম বেড়ে গেলেও প্রতিবাদ হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট করে যারা অযৌক্তিকভাবে কাগজের দাম বাড়িয়ে দেয় তাদের বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ হয় না। এটি খুবই দুঃখজনক।

আরও একটি দুঃখের বিষয় হলো, সরকার থেকে করোনা মহামারির সময় অনেকেই প্রণোদনা পেয়েছেন। প্রকাশকরা এসময় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণে প্রণোদনা চেয়েও কোনোরকমে উপকৃত হয়নি। প্রকাশকদের কোনোরকম প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। অনেক প্রকাশক অর্থ লগ্নি করে সেটি আর ফিরে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ দিনের ব্যবসা গুটিয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন।

বর্তমানে কাগজের ক্রমবর্ধ্মান মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকাশকরা আগামী বইমেলায় বই প্রকাশ না করার ব্যাপারেও সন্দিহান হয়ে পড়ছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক প্রকাশক আগামীতে স্টল দেবেন না বলে ভাবছেন। আমার কথা, সৃজনশীলতা মানুষকে আরও উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে থাকে। কাজেই প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

লেখক: প্রকাশক, আগামী প্রকাশনী

এসএন


বিভাগ : মতামত