রাজনীতি

আজ ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম

আজ ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার শীর্ষ থেকে রাজপথ, আন্দোলন থেকে কারাগার বিভিন্ন বাঁক পেরিয়েছেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে না যাওয়ার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধু একটি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান-পতনের সঙ্গেও তা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সরকার পরিচালনা, বিরোধী দলের আন্দোলন এবং নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় তার সরব উপস্থিতি ছিল।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজপথের অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে সামনে আসেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বিএনপিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যায়। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয় এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া।

এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিও বিস্তৃত হয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি হলো ‘আপসহীনতা’। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক চাপ, আন্দোলন, মামলা কিংবা কারাবাস কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি সহজে নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি।

জীবনের শেষ রাজনৈতিক অধ্যায়েও তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মামলা ও কারাবাসের কারণে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বিএনপির নেতৃত্বে তার অবস্থান ছিল অটুট। অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু।

শুক্রবার বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মূর্ত প্রতীক ও মূল প্রেরণা’ ছিলেন। তার ওপর বারবার আক্রমণ হলেও তিনি নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।

খালেদা জিয়ার দৃঢ়তার বর্ণনা দিতে গিয়ে রিজভী তাকে ‘হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে’ এগিয়ে চলা নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই বক্তব্য যেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনেরই প্রতিচ্ছবি প্রতিকূলতা এসেছে, আঘাত এসেছে, কিন্তু নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে তিনি পিছিয়ে যাননি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের পাশাপাশি দলটির রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের কাছে তার নাম উচ্চারিত হয় আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। ক্ষমতায় থাকাকালে যেমন তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব কমেনি। বিভিন্ন সংকটের সময়ে দলের নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে থেকেছেন।

বিএনপির কাছে খালেদা জিয়া একই সঙ্গে দলনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আন্দোলনের প্রতীক। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখেই দলটি নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ নির্ধারণ করেছে।

এবারের জন্মদিনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

তবে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি একজন নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে স্মরণ করার উপলক্ষ। তাদের চোখে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক; তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার অসংখ্য স্মৃতি।

সময় বদলেছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে, অনেক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তিও হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার নাম এখনো দেশের রাজনীতিতে প্রবলভাবে উচ্চারিত হয়। কারণ তার রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতায় থাকা বা না থাকার হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ, প্রতিকূলতা এবং একটি রাজনৈতিক দলের কয়েক দশকের ইতিহাস।

৮২তম জন্মদিনে তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন। তাদের চোখে তিনি সেই নেত্রী, যিনি ঝড়ের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থেকেছেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি।