সারাদেশ
১১৯ কোটি টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি
চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে মহেশপুর ৫৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর খালিশপুরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে বিজিবি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়কালে মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত থেকে জব্দ করা বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিপজ্জনক প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির যশোর রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বিজিবির সাতটি ব্যাটালিয়ন যশোর অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বাহিনী দিয়ে মাদক দমন সম্ভব নয়— এর জন্য দরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার আহসান হাবিব। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। তিনি জানান, বিজিবি গত ১৫ মাসে সীমান্তে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, ক্রিস্টাল ম্যাথ (আইস), এলএসডি, ট্যাপেন্টাডল এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যৌন উত্তেজক ওষুধ। এগুলো জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল।

ব্রিগেডিয়ার হুমায়ুন কবীর বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, সীমান্তে যারা মাদক বহন করে তারা কেবল বাহক মাত্র। প্রকৃত বিনিয়োগকারী এবং চক্রের মূল হোতারা রয়েছেন শহর বা রাজধানীতে। অনেক সময় তারা সমাজের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সকলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।