সারাদেশ
কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা, পরে ওঝার দাবি ‘বেঁচে নেই’
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের তিন দিন পর কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। পরে ওই ওঝাই পরিবারকে জানিয়েছেন, ওই নারী আর বেঁচে নেই।
ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
মারা যাওয়া নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। তিনি সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায় বসবাস করতেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিষাক্ত সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসনা বেগম। পরে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ইসিজি করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর উপজেলার চতলবাইদ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামে এক ওঝা সেখানে আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। শনিবার তিনি কবরের এক পাশে গর্ত করে ঝাড়ফুঁক করেন এবং গন্ধ শুঁকে ‘তেলের গন্ধ’ পাওয়ার দাবি করেন।
ওঝার কথায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন। তার দাবি ছিল, মরদেহে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব।
হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগম জানান, আগামী মঙ্গলবার আবার কবরের পাশে এসে পরীক্ষা করার কথা ছিল ওই ওঝার। তবে এর আগেই তিনি ফোন করে জানান, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন হাসনা আর বেঁচে নেই।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা করে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এরপর কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁক করে তাকে জীবিত করার দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।