খেলা

এবার নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

এবার নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
ছবিঃ সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে এক নারী কর্মীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ওই নারী কর্মীকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে উয়েফা থেকে বিদায় করা হয়। একই সঙ্গে তাকে এমবিএ পড়ার খরচও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী কর্মী উয়েফায় অপেক্ষাকৃত জুনিয়র পদে কাজ করতেন এবং ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কের সময় তাকে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের সময় ইনফান্তিনো ছিলেন বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা। তিনি তখন উয়েফার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় নারী কর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সংস্থার ভেতরে প্রশ্ন ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনিও বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। এরপর ওই নারী কর্মীকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে সংস্থা থেকে বিদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থের পরিমাণ ছয় অঙ্কের ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের ফিও পরিশোধ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উয়েফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নারী কর্মীকে বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফিও পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে মুখপাত্রের দাবি, সে সময় উয়েফায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

উয়েফার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে এ ধরনের বিষয়ে সংস্থার নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। বর্তমানে উয়েফার কর্মীদের জন্য যে বিধিমালা কার্যকর রয়েছে, তা আধুনিক ও উচ্চমানের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ করে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ইনফান্তিনো এগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।

ফিফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি। কারণ, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। কর্মীদের বিষয়ে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে বিদায়ী অর্থ ও ক্ষতিপূরণ প্যাকেজও রয়েছে, সেগুলো প্রযোজ্য নিয়ম মেনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ফিফা।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তিনি ইতোমধ্যেই নানা কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির কথিত গোপন পরিকল্পনা নিয়েও তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তার সাবেক প্রতিষ্ঠান উয়েফাকে ঘিরেও এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে নতুন এই অভিযোগ তার ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উয়েফার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ১৬ বছর সংস্থাটিতে কাজ করার পর তিনি ২০০৯ সালে উয়েফার মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই সময় থেকেই বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে ইনফান্তিনো ২০০১ সালে লিনা আল আশকারকে বিয়ে করেন। লেবানন ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। বর্তমানে তারা চার সন্তানের বাবা-মা।

নতুন অভিযোগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো সামনে আসেনি। অভিযোগের পাশাপাশি ইনফান্তিনো ও ফিফার পক্ষ থেকে তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।