প্রথম মহাকাশচারী পাঠাবে সৌদি আরব ও তুরস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১৭ পিএম | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৬ এএম


প্রথম মহাকাশচারী পাঠাবে সৌদি আরব ও তুরস্ক

‘স্পেসএক্স’ হলো একটি মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মহাকাশ কম্পানি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছেন মার্কিন অতি ধনী ইলন মাস্ক। যাতে বাণিজ্যিক মহাকাশ যাত্রার সেবা প্রদান করা যায়। স্পেসএক্সের পুরো মানে হলো ‘স্পেস এক্সপ্লোরারেশন টেকনোলজিস করপোরেশন’।

আরব বিশ্বের প্রধান দেশ, ধনী রাষ্ট্র সৌদি আরব পরিকল্পনা করছে প্রথমবারের মতো তার দেশের দুইজন মহাকাশচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর। তারা ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের কাছ থেকে দুটি স্পেস এক্স নামের ক্যাপসুল কিনবে। আর তার একটিকে দুজনকে প্রথম মহাকাশে নেবে। ফলে সর্বশেষ উপসাগরীয় দেশ হিসেবে বেসরকারী মার্কিন মহাকাশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগীতা দৃঢ করতে চেষ্টা করছে বলে এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত ও যুক্ত তিনজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন সিএনএনকে।

এই সূত্রগুলো বেনামে সৌদি মিশনের কর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই কথা বলেছেন, এর মধ্যে বেসরকারীভাবে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে হিউসটনের অ্যাক্সিয়াম স্পেস’র সঙ্গে। তারা গবেষক ও ভ্রমণকারীদের জন্য মার্কিন মহাকাশযান যোগাড় ও পরিচালনা করেন। চুক্তির অধীনে দুজন মার্কিন মহাকাশচারী স্পেসএক্সের মহাকাশদলের সঙ্গে তাদের ড্রাগন ক্যাপসুলে সৌদিরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে যাবেন এবং তারা বড়জোড় একটি সপ্তাহ সেখানে থাকবেন আগামী বছরে। তবে সেটি কোন সময়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। ইতিহাসের অংশ হবেন ও গড়বেন এই দুই অপ্রকাশিত সৌদি মহাকাশচারী। তারাই তারাই তাদের সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো একটি বেসরকারী মহাকাশযানে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণে যাবেন। উল্লেখ্য, রাজধানী রিয়াদে দেশটির আন্তর্দিতিক মহাকাশ স্টেশন আছে। এই চুক্তি দুটির কোনোটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি অ্যাক্সিয়াম।

সৌদি আরবের এই মহাকাশ সংস্থার নাম হলো ‘সৌদী স্পেস কমিশন’। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৮ সালে। একটি স্বাধীন সরকারী সংস্থা। ২৭ ডিসেম্বর রাজকীয় আদেশে চালু হয়েছে। তাদের চেয়ারম্যান হলেন দেশের যোগাযোগ ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন আমের আলসওয়াহা। তিনি দেশের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ সংস্থা চালু করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানও কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও মহাকাশ প্রশাসন-‘দি ইউএস স্পেস এজেন্সি’র অধীনে বেসরকারী মার্কিন কম্পানিগুলো মহাকাশচারীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে ধীরে, ধীরে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা এখন মানুষকে চাঁদে পাঠানোর দিকে প্রবলভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন আরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো মানব মহাকাশ ফ্লাইটকে লো-আর্থ আরবিটে বাণিজ্যিকভাবে পাঠানোর।

সৌদি আরবের সঙ্গে অ্যাক্সিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানের এই চুক্তির ফলে নাসার মতো সরকারী প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘকালের দখল করে রাখা ক্ষেত্রে একটি অনন্য কৌশলগত বিষয় হবে বলে মনে করছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনটি একটি ফুটবল মাঠের সমান, বিশ্ব থেকে ২৫০ মাইল বা ৪শ কিলোমিটার ওপরে। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আন্তজাতিক মহাকাশচারীদের কমক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আমেরিকান দুই মহাকাশচারী-নাসার অবসর নেওয়া মহাকাশচারী পেগি উইটসন ও রেসিং কার ড্রাইভার ও বিনিয়োগকারী জন শফনারের সঙ্গে এই মিশনে সৌদি মহাকাশচারীরা যোগ দেবেন। তাদের নাম আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। এই মিশনের নাম হলো ‘অ্যাক্স-২’। অ্যাক্সিয়ামের পরিচালিত দ্বিতীয় মহাকাশযাত্রা হবে এই যান।

তবে বেসরকারী মহাকাশচারীদের এই মিশনের জন্য নাসার চেয়ার হিসেবে পরিচালিত আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের অংশগ্রহণকারী ও জিম্মাদার দেশ রাশিয়া, কানাডা, জাপান ও দি ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির কাছ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে, জানিয়েছেন মার্কিন একজন মহাকাশ কর্মকর্তা।

তবে অ্যাক্সিয়াম ও অন্য মহাকাশ কম্পানিগুলো বিদেশী সরকারদের সঙ্গে তাদের চুক্তিগুলো কাঁট, ছাঁট করছে। কেননা এগুলো প্রবলভাবে ব্যয়বহুল ভ্রমণ ও অভিযান এবং গবেষণা। তবে দেশের গর্ব ও মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হবে বলে উঠতি ক্ষমতাধর দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের চুক্তি অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে বলে মনে করছেন তারা।

অ্যাক্সিয়াম এই এপ্রিলে তাদের প্রথম মিশন পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। তারা স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে চারজন নভোচারীকে প্রেরণ করেছেন। তাতে একজন কানাডিয়ান বিনিয়োগকারী ও ইসরাইলের একজন ব্যবসায়ী গিয়েছেন।

এই সোমবার অ্যাক্সিয়াম আরো একটি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করেছেন। তাতে দেশের দুজন মহাকাশচারীকে ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো মহাশূণ্যে প্রেরণ করা হবে। সেই ফ্লাইটের সঙ্গে ঘনিষ্ট একজন বলেছেন সেই মিশনের নাম হতে পারে ‘অ্যাক্স-৩’।

একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে গেল অর্ধ দশক ধরে মহাকাশে নভোচারী আনা নেওয়ার বেসরকারী ব্যবসা পরিচালনা করছে অ্যাক্সিয়াম। তারা প্রতিটি মিশনের জন্য ড্রাগনের প্রতিটি সিট ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে বিক্রি করেছেন।

 ছবি : সৌদি আরব কিনছে এমন দুটি মহাকাশযান।