রাজধানী

বসিলা-আদাবর-বেড়িবাঁধে ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও হামলায় আতঙ্ক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ এএম

বসিলা-আদাবর-বেড়িবাঁধে ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও হামলায় আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বসিলা, আদাবর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং চক্র। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ শনিবার রাতে ঈদের চাঁদার দাবিতে আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আদাবরের ‘আবির ফ্যাশন’ নামের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা ঈদ উপলক্ষ্যে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা একত্র হয়ে আদাবর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এর আগে মোহাম্মদপুরের বসিলার তিন রাস্তার মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজে দিনের আলোতে প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পথচারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি কোনোমতে দৌড়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা ‘কিলার বাদল গ্রুপ’-ই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

একই দিনে একই এলাকায় দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের দৃশ্যও সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। চাঁদা না দিলে পুরো মার্কেটের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যেখানে আবারও উঠে আসে কিলার বাদল গ্রুপের নাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিলার বাদল, মোল্লা কাউসার, গ্রেজ সোহেল, কালা ফারুক, বাত রাসেলসহ একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান, বসিলা সিটি হাউজিং ও আশপাশের এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত। নিয়মিত ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সবশেষ হামলার ঘটনায় উত্তেজিত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা কালা রাসেল গ্রুপের এক সদস্যের বাবাকে আটক করেন। পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে তারা আদাবর থানার সামনে জড়ো হন। এতে থানার সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কালা রাসেলসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দমনে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পাহারা বসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিটি এলাকায় পুলিশের মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদকে সামনে রেখে পুরো এলাকায় পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, বসিলা–আদাবর–বেড়িবাঁধ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আবার মাথাচাড়া দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।