রাজধানী
রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি প্রশাসক
রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কোনো বাধাই ফুটপাত দখলমুক্ত করার পথে প্রতিবন্ধক হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে যেখানেই দখলের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করবে ডিএনসিসি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে সামাজিক সংগঠন ‘ফুটস্টেপ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, রাজধানীবাসীকে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দিতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। আধুনিক নগরী গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। নগরবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন দখল ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ফুটপাত দখলের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু মিরপুর নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যেকোনো এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে যত বাধাই আসুক না কেন, নগর উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবে।
এ সময় নগর উন্নয়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘ফুটস্টেপ’-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।