সারাবিশ্ব

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ, কামানের গোলায় ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ, কামানের গোলায় ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আপার কুররাম ও ঘোজগাড়হি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে। পরিস্থিতি ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, রোববার (১৮ অক্টোবর) আফগান তালেবান সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় প্রথমে গোলাবর্ষণ শুরু করেন। এর জবাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারী কামান ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালায়। পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, এ হামলায় আফগান তালেবানের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং তাদের একাধিক সীমান্ত চৌকি ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় আপার কুররাম এলাকার ‘টপসার’ পোস্ট এবং ‘শিপোলা’ নামের একটি সামরিক ঘাঁটিতে কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। এতে স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি পক্ষ। এ ছাড়া ঘোজগাড়হি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা হামলার মুখে আফগান তালেবান সদস্যরা একটি সীমান্ত চৌকি ছেড়ে সরে যান বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।

দুই দেশের সীমান্তে চলমান উত্তেজনার পেছনে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের অবস্থান ও এ-সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত হামলায় ১ হাজার ৩২৭ জন নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আহত হওয়ার যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য উৎস ও হিসাবের সময়সীমা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ কারণে পরিসংখ্যানটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

এদিকে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হয়েছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা প্রতিরোধে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতি সীমান্তপারের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ।

সীমান্তে সর্বশেষ সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নিরপেক্ষ সূত্রের তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।