সারাবিশ্ব

গাজায় আবারও রক্তগঙ্গা, ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ৭৫


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১২ পিএম

গাজায় আবারও রক্তগঙ্গা, ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ৭৫
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন ভূমিগুলোর একটি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই মারা গেছেন ৪৪ জন।

ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় পাড়া-মহল্লা এখন ধ্বংসস্তূপ, আর গোটা গাজাই পরিণত হয়েছে এক মৃত্যুপুরীতে। আশ্রয় খুঁজেও কেউ নিরাপদ থাকতে পারছেন না। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—সবাই এখন আতঙ্কে দিন পার করছেন।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান ও স্থল বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গাজা সিটির জেইতুন, তুফাহ, সাবরা, নাসর ও শুজাইয়া এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ইতোমধ্যেই গাজা সিটিকে আখ্যা দিয়েছে—“আতঙ্কের নগরী”।

একটি তাঁবুতে রাত কাটানো ইসরা আল-বাসুস বলেন, “আমি ও আমার সন্তানরা ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ বোমা পড়ল। চারপাশে রক্ত, ধ্বংস আর চিৎকার ছাড়া কিছুই ছিল না।”

তাল আল-হাওয়া এলাকায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্য, যার মধ্যে তিনজন শিশু, নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়। এক মা আল-শিফা হাসপাতালের মর্গে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁদছিলেন, “আমাকে ফেলে কোথায় গেলে বাবা?” এ দৃশ্য দেখে চোখ শুকনো রাখা যায় না।

ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা এখন গাজা সিটির ৪০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আগামী দিনে অভিযান আরও বাড়ানো হবে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, জেইতুন এলাকায় ৫০টির বেশি সামরিক যান মোতায়েন রয়েছে।

মানুষ আশ্রয়ের জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ গেছেন শেখ রাদওয়ান, কেউ খান ইউনিসে। কিন্তু কোথাও শান্তি নেই। শেখ রাদওয়ানে ট্যাংক ঢুকে তাঁবু পুড়িয়ে দিয়েছে, আর খান ইউনিসেও মানুষের ভিড়ে অবস্থা ভয়াবহ।

শরণার্থী শিবিরেও শান্তি নেই। নুসাইরাতে ইসরায়েলি বোমায় নিহত হয়েছেন ৭ জন, যার মধ্যে ৩ জন শিশু। রাফাহতে ত্রাণ নিতে আসা মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে।

ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে গাজার প্রায় ১০ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন। কেউ জানেন না, কখন, কোথা থেকে, কার ওপর মৃত্যু নেমে আসবে।