সারাবিশ্ব
ইরানি হামলায় কুয়েতের দুই সীমান্তরক্ষী নিহত, তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা
ইরানের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে কুয়েতের দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) ভোরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তারা নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত দুই সীমান্তরক্ষী হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ ইমাদ আল-শারাহ এবং মেজর ফাহাদ আব্দুল আজিজ আল-মাজমেইদ। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তারা ঠিক কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববারও দেশটির আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে শত্রুপক্ষের হামলা মোকাবিলা করছে। এ সময় আকাশে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ফল।
এদিকে চলমান উত্তেজনার কারণে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব যাতে তেল স্থাপনাগুলোতে না পড়ে এবং উৎপাদন কার্যক্রম নিরাপদ থাকে, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। রোববার এই সংঘাত নবম দিনে গড়িয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার, তেল পরিশোধনাগার এবং পানি শোধনাগারও রয়েছে। এসব হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধের ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য আবেদন দ্রুত বাড়ছে।