সারাবিশ্ব

ইরানি হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে ইসরায়েল!


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

ইরানি হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে ইসরায়েল!
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। দেশটি সফর শেষে ফিরে এসে এমন দাবি করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক ব্রজমোহন সিং। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

সংবাদমাধ্যম দ্য কারেন্ট ও প্রেস টিভি–এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে সাংবাদিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রজমোহন সিং বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাইরেন বাজার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ইসরায়েল সরকার যেসব বাঙ্কার ও আশ্রয়কেন্দ্রকে নিরাপদ বলে দাবি করেছিল, সেসব স্থানের ভেতরেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখার জন্য হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকার প্রকাশ করছে না। এমনকি যেখানে মৃতদেহ রাখা হয়েছে, সেই হাসপাতালগুলোতেও সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো হামলার ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় তা ঠিক কোথায় ঘটেছে, সে তথ্যও স্পষ্টভাবে জানা যায় না।

ব্রজমোহন সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, ইরানি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতেও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে সংঘাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলে সামরিক সেন্সরশিপের কারণে যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য ও কভারেজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

তার এসব মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি বা অভিযোগগুলোর প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ডের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।