সারাবিশ্ব

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের দূত বহিষ্কার করলে হরমুজ প্রণালিতে বাধা দেবে না ইরান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের দূত বহিষ্কার করলে হরমুজ প্রণালিতে বাধা দেবে না ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করে যারা এই দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, সেই দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, আরব বা ইউরোপের যেকোনো দেশ যদি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করে এবং তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে সেই দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা পাবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, এই সুবিধা আগামী মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হতে পারে। বিষয়টিকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নতুন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মাত্র প্রায় ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটির নিরাপত্তা ও কার্যক্রম বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তাদের প্রশাসন বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুট এখনো খোলা থাকলেও এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়লে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।