সারাবিশ্ব
ইব্রাহিমি মসজিদে ৫ দিন আজান বন্ধ, ক্ষোভে ফিলিস্তিনিরা
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা পাঁচ দিনের জন্য আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি মুছে ফেলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে মসজিদটির পরিচালক শায়খ মুতাজ আবু স্নেইনাহ এবং প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হাম্মাম আবু মুরখিয়াকে ১২ দিনের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি একটি সূত্র জানায়, গত রোববার থেকে মসজিদে আজান দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মসজিদের কেন্দ্রীয় চত্বরে ছাদ নির্মাণের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, মসজিদে নামাজ আদায় করা গেলেও আজান দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আজানের কক্ষটি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অংশে হওয়ায় মুয়াজ্জিনকে সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে এক উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেটলার মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর মসজিদটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ ইহুদিদের এবং বাকি অংশ মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে এই পবিত্র স্থানটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে থাকে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মসজিদে বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে। মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করা, ইমাম ও কর্মীদের বহিষ্কার এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি মসজিদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কাঠামো ধ্বংসের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
হেব্রন ডিফেন্স কমিটির সমন্বয়কারী হিশাম শরাবতী বলেন, আজান নিষিদ্ধ করার ঘটনা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশক থেকেই বিভিন্ন সময়, বিশেষ করে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ও শনিবারে আজান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, করোনা মহামারি ও গাজা যুদ্ধের অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তল্লাশির নামে অনেককেই প্রবেশদ্বার থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।