সারাবিশ্ব
খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের প্রতিনিধি, হরমুজে বন্ধুরাষ্ট্রদের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা ইরানের
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বিশ্বনেতাদের এই উপস্থিতি ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন। এতে বিভিন্ন আরব দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন, যা ইরানকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। এদিকে খামেনির জানাজা উপলক্ষে তেহরানের রাস্তায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন সার্ভিস ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংকটে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তাদের জন্য এই ফি-তে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে, তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান। দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, প্রথম ৬০ দিন কোনো ফি ছাড়াই জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এর পরবর্তী নীতিমালা এখনো স্পষ্ট নয়।
বেইজিংয়ে আয়োজিত বিশ্ব শান্তি ফোরামে রাষ্ট্রদূত ফাজলি বলেন, কঠিন সময়ে যেসব দেশ বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের জন্য এই নতুন ব্যবস্থায় ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইরান। প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকায় সেখানে এই সার্ভিস ফি আরোপ করা হবে। তবে এটিকে কোনো টোল বা বাধ্যতামূলক কর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফাজলি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত নৌযান চলাচলের কারণে পরিবেশের ক্ষতি মোকাবিলা করা।
সূত্র: গালফ নিউজ