সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের, শতাধিক সেনা হতাহত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের, শতাধিক সেনা হতাহত
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা ১৫ দিনের সশস্ত্র সংঘাতের সময় মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন।

তবে তেহরানের এ দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ওয়াশিংটন।

আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেব্বি বলেন, ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী ড্রোন, যার মধ্যে ৮টি ছিল নতুন। পাশাপাশি সুরক্ষিত হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ৮টি বিমান ধ্বংস করার কথাও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানকালে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৫টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ৩টি বিমান ও নৌবাহিনীর নজরদারি রাডার, ৮টি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট, জ্বালানি ট্যাংক ও অস্ত্রের গুদামও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মোহেব্বি অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা লঙ্ঘন করে আগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওয়াশিংটনের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবস্থান করা ৮টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার একটি স্থাপনায় থাকা ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে সতর্কবার্তা দিয়ে মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাজ্য বা উপসাগরীয় কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তা করে, তাহলে তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এই সহায়তা অব্যাহত থাকলে লন্ডনকেও হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ভুল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্ররোচিত করছে ইসরায়েল।