সারাবিশ্ব

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের হামলা, ডুবে গেল দুই জাহাজ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ এএম

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের হামলা, ডুবে গেল দুই জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় হামলার শিকার হয়ে ডুবে গেছে দুটি কনটেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজ। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ হামলার পর আগুন ধরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় জাহাজটির ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজও পৃথক ঘটনায় ডুবে গেছে। তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি ও জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা বেড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই তেহরান নতুন কৌশল নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংককে শত্রুপক্ষ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিষয়ে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার দেশটির আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আগাম হামলা চালানো কিংবা নির্বাচনের আগে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য মোটেও সুবিধাজনক নয়। তবে ইরানের হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।