সারাবিশ্ব
শত্রুর হামলা ঠেকাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে চায় ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশকে এমন পর্যায়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় উন্নীত করতে চায় তেহরান, যাতে কোনো শত্রুর ইরানে হামলা চালানোর সাহস না হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উন্নত প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের কাছাকাছি ইসলামশাহর শহরে কয়েকটি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনসহ উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের সাম্প্রতিক অর্জন ইরানের মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। এসব সাফল্য প্রমাণ করে, দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
তবে বর্তমান অর্জনেই সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের মতে, ইরানের সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশকে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক হামলা চালানোর আগে পরিণতি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থানের তুলনায় ইরান আরও ভালো করতে সক্ষম। দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে কোনো শত্রু ইরানের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায়। তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকার ওপরও জোর দেন পেজেশকিয়ান। তিনি মনে করেন, দক্ষ, যোগ্য ও সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলার ভিত্তি হলো শিক্ষা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি অর্জন করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দেশের বিদ্যমান মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যে ইরানের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।