সারাবিশ্ব
সৌদির নিরাপত্তায় পাশে থাকার ঘোষণা সিসির, মিশরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনের আহ্বান
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন পেতে মিশরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মিশরীয় প্রেসিডেন্ট।
মিশরের সামরিক একাডেমি ও বিভিন্ন সামরিক কলেজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিসি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে মিশর সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তবে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হবে আত্মরক্ষামূলক; কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো মিশরের উদ্দেশ্য নয়।
মিশরীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে চান সিসি। এ জন্য তিনি আইনপ্রণেতাদের একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বানের কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সহায়তার অনুরোধ এলে সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সিসি স্পষ্ট করে বলেন, মিশর কোনো যুদ্ধে জড়াতে কিংবা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে চায় না। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মিশরের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দেশটির নেতৃত্বের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সংহতি
বক্তব্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিশরের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন সিসি। তিনি বলেন, অতীতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিভিন্ন সময়ে মিশরকে সহযোগিতা করেছে। সেই সমর্থনের কথা ভুলে গেলে চলবে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিশর দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিসি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিশরের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
২০৩০ সালে মেয়াদ শেষের কথা জানালেন সিসি
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ২০৩০ সালে তার বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হবে। এ বিষয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিসি বলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত এবং সংবিধান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তিনি আরও বলেন, মিশরীয় রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের হাতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তুলে দেওয়া তার অন্যতম দায়িত্ব। দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তায় সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মিশরের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সিসি। তিনি সামরিক বাহিনীকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।
একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান মিশরীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে জনগণের ঐক্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিসির এ বক্তব্যে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি মিশরের সমর্থন আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে মিশর কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।