সারাবিশ্ব

সৌদিকে রক্ষায় সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি, জরুরি অধিবেশনে বসছে মিসরের পার্লামেন্ট


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

সৌদিকে রক্ষায় সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি, জরুরি অধিবেশনে বসছে মিসরের পার্লামেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের অনুরোধ পেলে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন নিতে জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছে মিসরের পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অনুরোধে রোববার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ঘিরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কায়রোর এ উদ্যোগ সামনে এলো।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির সামরিক একাডেমির এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হোক, তা মিসর মেনে নেবে না। রিয়াদের পক্ষ থেকে সহায়তার অনুরোধ এলে দেশটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, মিসরের উদ্দেশ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা আক্রমণ চালানো নয়; বরং সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া।

সিসি জানান, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে তিনি পার্লামেন্টকে জরুরি অধিবেশন আহ্বান করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে যাতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার খবরও এসেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

মিসরের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিসর ও সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই মিত্র দেশ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সহযোগিতা রয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটেও অংশ নিয়েছিল মিসর। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় কায়রোর সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

তবে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হলেও এর অর্থ এই নয় যে মিসর ইতোমধ্যে সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ, মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং সহায়তার ধরন চূড়ান্ত হওয়ার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে। আপাতত মিসরের অবস্থান হলো, প্রয়োজনে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো হবে, তবে সেই সহায়তার লক্ষ্য থাকবে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।