সারাবিশ্ব
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ৭, পশ্চিম তীরে গ্রেপ্তার ১০
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। এসব ঘটনায় ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা কবরস্থানের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ছাড়া ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-কুসাইস এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্যদিকে, গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায়ও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে এক দম্পতি নিহত হন। এ ঘটনায় তিন নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হামাদ সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক নারী ও দুই শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১০
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
গত শনিবার পশ্চিম তীরের তাইবেহ এলাকার কাছে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। রোববার এক বিবৃতিতে জোটটি এ হামলার প্রতিবাদ জানায়। একই দিন পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানায় কানাডাও।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের এ ধরনের সহিংসতা বৃহত্তর একটি প্রবণতার অংশ। এটি ফিলিস্তিনি জনবসতিগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে রোববার জেরুজালেমে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন দেশটির সাবেক কূটনীতিকরা। এ সময় তাঁরা ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অবসানের দাবি জানান।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম সফর করেছেন মার্কিন কূটনীতিকরা। চলমান উত্তেজনার মধ্যে সফরকালে তাঁরা একটি গির্জা পরিদর্শন করেন। তবে তাঁদের সফরের বিস্তারিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
গাজায় প্রাণঘাতী হামলা এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। পরিস্থিতির মধ্যে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রশ্নটি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।