সারাবিশ্ব

নিজেই নিজের বেতন দ্বিগুণ করলেন পেরুর প্রেসিডেন্ট, সমালোচনার ঝড়


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

নিজেই নিজের বেতন দ্বিগুণ করলেন পেরুর প্রেসিডেন্ট, সমালোচনার ঝড়
পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। ছবি: সংগৃহীত

চরম জনপ্রিয়তা সংকটে থাকা অবস্থায় নিজের মাসিক বেতন দ্বিগুণ করে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে তার মাসিক বেতন হবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকার সমান।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশজুড়ে সহিংস গ্যাং কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে বলুয়ার্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও দেখা গেছে।

৬৩ বছর বয়সী বলুয়ার্তের মেয়াদ শেষ হতে এখনও এক বছর বাকি থাকলেও, এই সময়েই নিজের বেতন দ্বিগুণ করার সরকারি অনুমোদনকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক অজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে।

মাত্র গত মে মাসেই প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টের বেতন বাড়ানোর খবর “ভিত্তিহীন গুজব।” কিন্তু সেই বক্তব্যের মাত্র দুই মাসের মাথায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার বেতন দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয়, যা জনগণের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অর্থমন্ত্রী রাউল পেরেজ-রেয়েস সরকারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, লাতিন আমেরিকার ১২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বেতনের সঙ্গে তুলনা করেই নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, আগের বেতন অনুযায়ী বলুয়ার্তে ছিলেন তালিকার ১১ নম্বরে—শুধু বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের চেয়ে সামান্য এগিয়ে।

তবে বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তকে সময় ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিবিদ হোর্হে গনসালেস ইসকিয়ের্দো এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, "জনগণের কাছে যখন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা প্রায় শূন্যের কোঠায়, তখন এই ধরনের ঘোষণা দেওয়াটা রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী।"

সাবেক অর্থমন্ত্রী লুইস মিগুয়েল কাস্তিয়াও বলেন, "এ সিদ্ধান্ত জনগণের মনে প্রেসিডেন্টের প্রতি আস্থাহীনতা আরও গভীর করবে।"

২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দিনা বলুয়ার্তে নানা বিতর্ক ও তদন্তের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ ‘রোলেক্সগেট’—যেখানে তাকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গয়না উপহারের তথ্য গোপন করার জন্য দায়ী করা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির প্রভাব এখনও পেরুর রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট বলুয়ার্তে আপাতদৃষ্টিতে বেতন বাড়ানোর সুবিধা পেলেও, রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে আরও অনেক বেশি। এমন সময়ে যখন দেশের সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন নিজের বেতন দ্বিগুণ করা জনগণের আস্থা পুরোপুরি হারানোর সমতুল্য।