সারাবিশ্ব
‘ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি পুরুষ ছিলেন’ দাবি করা মার্কিন পডকাস্টারের বিরুদ্ধে ম্যাক্রোঁর মামলা
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তাঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ ‘লিঙ্গ পরিচয়’ নিয়ে কুৎসা রটনার অভিযোগে এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন। বুধবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এক মানহানি মামলায় তারা অভিযোগ করেন, মার্কিন ডানপন্থী পডকাস্টার ক্যান্ডেস ওউন্স তাঁদের সম্মানহানি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়েছেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ক্যান্ডেস ওউন্স দাবি করেছেন, ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত আসলে একজন পুরুষ এবং তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ‘জ্যঁ-মিশেল ট্রোগনু’—যা আদতে ব্রিজিতের বড় ভাইয়ের নাম। ওউন্সের দাবি অনুযায়ী, ব্রিজিত লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারীতে পরিণত হয়েছেন এবং অন্য একজনের পরিচয়ে নিজের জীবন গড়েছেন।
এই বক্তব্য ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সামগ্রীকে মিথ্যাচার ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন ম্যাক্রোঁ দম্পতি। তাঁরা বলেন, এসব ‘বিকৃত তথ্য’ প্রকাশ করে ক্যান্ডেস ওউন্স তাঁদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ইতিহাস, বিয়ের সম্পর্ক এমনকি তাঁদের সন্তানদের নিয়েও গুজব ছড়িয়েছেন।

ওউন্সের বিরুদ্ধে মামলার কেন্দ্রে রয়েছে তার আলোচিত পডকাস্ট সিরিজ ‘Becoming Brigitte’, যা ইউটিউবে এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে ২৩ লাখেরও বেশি বার। এ ছাড়া এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা ভিডিও ও মন্তব্যও মামলার আওতায় আনা হয়েছে।
ম্যাক্রোঁ দম্পতির ভাষ্য, তারা অন্তত তিনবার ক্যান্ডেস ওউন্সকে আইনি নোটিশ দিয়ে এসব মন্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তিনি সাড়া দেননি। বরং নিজের অনুসারীদের কাছে এগুলোকেই ‘সত্যের অনুসন্ধান’ বলে দাবি করে আরও প্রচার করেছেন।
অন্যদিকে, ক্যান্ডেস ওউন্স এই মামলা প্রসঙ্গে তাঁর নিজের পডকাস্টে বলেন, ‘আমি মামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যম থেকেই জেনেছি। এতে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে এবং এটি একটি PR স্টান্ট ছাড়া কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি বিদেশি সরকারের হুমকি, যা একজন আমেরিকান সাংবাদিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা।’
ওউন্সের মুখপাত্র বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দম্পতির এই পদক্ষেপ আসলে ক্যান্ডেসকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা। বিশেষ করে যখন ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তাঁর একাধিক সাক্ষাৎকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই গুজবের সূত্রপাত অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে প্রথম ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে কিছু ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে জনপ্রিয় ডানপন্থী মার্কিন ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন ও জো রগানের পডকাস্টেও উঠে আসে। ফ্রান্সে এই বিষয়ে এক মানহানি মামলায় দুই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যদিও চলতি মাসে সেই রায় বাতিল করে দেয় দেশটির আপিল আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিকে (public figure) মানহানি মামলায় জয়ী হতে হলে প্রমাণ করতে হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, অথবা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সত্য যাচাই না করেই তা প্রকাশ করেছেন— এটিকে বলা হয় actual malice। ফলে মামলাটি প্রমাণের চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি এটি নজিরবিহীনও, কারণ ইউরোপের একজন রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমানুয়েল ও ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ যে কৌশলে মামলা করেছেন, তাতে তাঁরা কেবল গুজব থামাতে চান না, বরং উদাহরণ তৈরি করতে চান— মিথ্যা তথ্য ছড়ালে বিশ্বপর্যায়ে নেতারাও আইনের শরণাপন্ন হন।