সারাবিশ্ব
গাজায় গণহত্যার স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন
গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার যে পাঁচটি ধারা রয়েছে, তার মধ্যে চারটির আওতায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও সেনারা গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—ফিলিস্তিনিদের হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন, ধ্বংসাত্মক জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জন্ম প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ। কমিশনের মতে, এসব কার্যক্রম সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার অভিপ্রায়কে প্রমাণ করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য এবং সেনাদের কর্মকাণ্ডে গণহত্যার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বক্তব্যকে গণহত্যায় উসকানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিশন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পাল্টা অভিযানে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪ হাজার ৯০৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ধ্বংস হয়েছে ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘরবাড়ি, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও খাদ্য ব্যবস্থা। জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছেন।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ইসরায়েলি সেনারা বেসামরিক নাগরিক ও সুরক্ষিত স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে, বন্দিদের ওপর অমানবিক আচরণ করেছে, জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি ঘটিয়েছে এবং চিকিৎসা ও খাদ্যসহ জরুরি সরবরাহ বন্ধ করেছে। এমনকি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার সবচেয়ে বড় ফার্টিলিটি ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার ভ্রূণ, ১ হাজার শুক্রাণু নমুনা ও বহু ডিম্বাণু ধ্বংস করা হয়, যা জন্ম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা কমিশনের তিন বিশেষজ্ঞকে “হামাসের প্রতিনিধি” আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, তারা হামাসের মিথ্যা প্রচারণার ওপর নির্ভর করেছেন। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, তাদের সামরিক পদক্ষেপ কেবল হামাসের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, এবং সেনারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাজ করছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ২০২১ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে এ স্বাধীন কমিশন গঠন করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাইয়ের নেতৃত্বে থাকা এই কমিশন এর আগে রুয়ান্ডার গণহত্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালেরও দায়িত্ব পালন করেছে।