সারাবিশ্ব
আফগানিস্তানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করল তালেবান সরকার!
আফগানিস্তানে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে তালেবান সরকার। এবার পুরো দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বর্তমানে আফগানিস্তান কার্যত একটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে ফাইবার-অপটিক সংযোগ ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট টিভি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমও।
তালেবান দাবি করছে, এই সিদ্ধান্ত ‘অশ্লীলতা রোধের’ অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি তথ্য প্রবাহ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ করার একটি গভীর রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে রাজধানী কাবুলসহ দেশজুড়ে নানা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ব্যাংকিং, ব্যবসা, গণমাধ্যম, এমনকি বিমান চলাচল পর্যন্ত এর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি। ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, এদিন অন্তত ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারেও সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনুসারীদের সামাজিক মাধ্যমে আপডেট পেতে অনুরোধ করেছে, যদিও সেটিও কার্যত সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারনেট সংযোগ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপর্যয়কর হতে পারে।
তালেবানের এমন পদক্ষেপে আফগানিস্তানে এক ধরনের নিঃসঙ্গতা নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা। সাবেক টিভি সম্পাদক হামিদ হায়দারি বলেন, “আফগানিস্তান এখন উত্তর কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতায়।”
সাবেক সংসদ সদস্য মরিয়ম সোলাইমানখিল লিখেছেন, “আফগানিস্তান থেকে এখন আর কোনো কণ্ঠ অনলাইনে শোনা যাচ্ছে না। এই নীরবতা ভয়াবহ।”
উল্লেখ্য, এটি তালেবান সরকারের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা। এর আগেও তারা নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বন্ধ, পাঠ্যসূচি থেকে নারী-লেখকের বই বাদ, এবং ধাত্রীবিদ্যা কোর্স বাতিলসহ একাধিক দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।