সারাবিশ্ব

মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১৪ পিএম

মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ
বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ নামে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে যাচ্ছে আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর)। দেশটির উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত নেতা ও পশ্চিম বাংলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

আজ দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছে। যার জন্য এই মসজিদ নির্মাণে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

৩৩ বছর আগে এই দিনেই (৬ ডিসেম্বর) ধ্বংস করা হয় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ।

babri bhanga.jpg
বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্য বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই নিতে হবে।

এদিন, রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, শান্তি বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর ১৯টি কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং সহিংসতার সম্ভাবনা থাকলে তারা পুনরায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর, মসজিদ নির্মাণ নিয়ে একদিকে যেমন রাজনৈতিক বিরোধী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

KHOB.jpg
বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধী নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ।

গত ৪ ডিসেম্বর, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বরখাস্ত হওয়া হুমায়ুন কবির এই মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসন ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ মন্তব্য করেছেন যে, মসজিদ নির্মাণের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং রাজ্য কোষাগার থেকে মন্দির নির্মাণের মতো পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “বাবরি মসজিদ” শব্দটি নিয়ে জনগণের মধ্যে আপত্তি রয়েছে এবং তৃণমূলের সিদ্ধান্তে জনগণের সহানুভূতি নেই।