সারাবিশ্ব
ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানালেন নোবেলজয়ী মালালা
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই। বিশেষ করে বিক্ষোভে নারী ও কিশোরীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মালালা বলেন, ইরানের এই বিক্ষোভকে শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। তার মতে, ইরানের মেয়েরাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মেয়েদের মতো সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চায়।
মালালা আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের জনগণের বাকস্বাধীনতা দমন করা হয়েছে। নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিধিনিষেধ মূলত লিঙ্গভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের অংশ, যা বিচ্ছিন্নতা, নজরদারি ও শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইরানের নারীরা চায় তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হোক এবং তারা যেন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার পায়। মালালার ভাষায়, বাইরের কোনো শক্তি কিংবা দমনমূলক শাসনের মাধ্যমে নয়, বরং ইরানের নারীদের নেতৃত্বেই সেই ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার দাবিতে ইরানের জনগণ ও বিশেষ করে নারীদের পাশে তিনি রয়েছেন।
এর আগেও ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন মালালা। গত ডিসেম্বরে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মানবাধিকারকর্মী নারগেস মোহাম্মাদির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য, ডলারের বিপরীতে রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উভয় পক্ষের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা সদস্যদের সংখ্যা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছিল, বিক্ষোভে অন্তত ৬৪৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী এবং নয়জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮৭টি শহরে ৬০৬টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে এবং এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।