সারাবিশ্ব
যৌন অপরাধী এপস্টেইনের ফাইলে শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন করে ৩০ লাখের বেশি নথিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সামনে এসেছে। তবে নথিতে সরাসরি তার নাম ব্যবহার না করে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ই-মেইলগুলোর একটিতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে পাঠানো একটি ই-মেইলে উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি অজ্ঞাত বিষয়ে একমত হয়েছেন। ই-মেইলটির বিষয়বস্তু ছিল ‘Jeffrey Epstein’। তবে সেখানে আলোচিত বিষয়টি কী ছিল, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই নথিতে শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও উঠে এসেছে। একটি ই-মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, মোদি তার পরামর্শ নিতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেন। এপস্টেইনের দাবি অনুযায়ী, সেটি কার্যকর হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদি সত্যিই ইসরায়েল সফর করেন, যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। এর কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করেন।
এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের কর্ণধার অনিল আম্বানির নামও উঠে এসেছে। নথিতে দাবি করা হয়েছে, মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে আম্বানি এপস্টেইনের সহায়তা চেয়েছিলেন।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কভিত্তিক এক ধনী বিনিয়োগকারী, যিনি নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন শোষণের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের তুলনামূলক হালকা সাজা ভোগ করে মুক্তি পান তিনি। পরে জানা যায়, ওই চুক্তির ফলে তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা দায়ের করা হয়। এফবিআই ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইন ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরীদের বিভিন্ন দেশে তার বাসভবন ও ব্যক্তিগত বিমানে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালাতেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অপরাধ আড়াল করতেন।
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি, নজরদারি ক্যামেরা বিকল থাকা এবং প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলার তথ্য সামনে আসায় তার মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২১ সালে নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।