সারাবিশ্ব
সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্রণালীটি কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে ইরানের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘোষণার সময়ই ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনীও বড় ধাক্কা খেতে পারে।
তবে পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি সামরিক মহড়া বা প্রণালী বন্ধের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আগের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
ইরান জানিয়েছে, তাদের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে লাইভ ফায়ার ড্রিল শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মহড়া। অতীতে ইরান একাধিকবার প্রণালী বন্ধের হুমকি দিলেও এবার সরাসরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ইরান সর্বশেষ ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় প্রণালীতে মাইন পেতে চলাচল ব্যাহত করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি