সারাবিশ্ব

জেন-জি গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

জেন-জি গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভের অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালের জনগণ। হিমালয় কন্যা হিসেবে পরিচিত দেশটিতে আজ প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যা আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলন। পরে সেই আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে সংঘর্ষে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেই এবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপাল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং উচ্চ বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে। ফলে এবারের নির্বাচনে দেশটির জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে পুরনো রাজনৈতিক শক্তি এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যে। একদিকে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক কেপি শর্মা অলি ও গগন থাপার মতো নেতারা। অন্যদিকে দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন জনপ্রিয় র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। মাত্র তিন বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে বালেন্দ্র শাহর অংশগ্রহণ নেপালের প্রচলিত রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়র বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোটযুদ্ধ নয়; বরং গত বছরের ‘জেন-জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, তারই একটি বড় রাজনৈতিক প্রতিফলন।

সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই নির্বাচনকে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনে মোট ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। প্রাথমিক ফলাফল আগামীকাল থেকেই পাওয়া শুরু হতে পারে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: টেলিগ্রাম ইন্ডিয়া।