সারাবিশ্ব

বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী

ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে ‘শেষ জামানায়’ প্রবেশ করেছে বিশ্ব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে ‘শেষ জামানায়’ প্রবেশ করেছে বিশ্ব
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ২ মার্চ, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কমান্ডার তার অধস্তন কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শুধু ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়, এটি ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনার’ অংশ। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘মহাপ্রলয়’ বা বাইবেল বর্ণিত শেষ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও এটি রূপকথার মতো শোনায়, বাস্তবে এটি পেন্টাগনের অভ্যন্তরে তৈরি এক গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের প্রতিফলন।

মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের কাছে জমা পড়া শতাধিক অভিযোগ এবং লুইজিয়ানা ও বিদেশে মোতায়েন থাকা ঘাঁটিগুলোর রিপোর্টে দেখা গেছে, কিছু কমান্ডার যুদ্ধকে বাইবেলের ‘বুক অফ রেভেলেশন’-এর আলোকে ব্যাখ্যা করছেন এবং এটিকে যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে তুলে ধরছেন। বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, কংগ্রেস সদস্য জ্যারেড হাফম্যান ও জেমি রাসকিন আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ধর্মবিশ্লেষকরা বাইবেলের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যেমন, ম্যাথু ২৪:৬–৭-এ বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও যুদ্ধের গুজব শোনা যাবে, কিন্তু ভয় পাওয়া যাবে না; জাতি ও রাজ্যগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে উঠবে। ইজেকিয়েল ৩৮:৫-এ ‘পারস্য’ উল্লেখ রয়েছে, যা বর্তমান ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গত বছরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, থেসালোনিকীয় ৫:৩-এর ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’র বার্তার সঙ্গে হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং দামেস্কের গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলা—যাতে ২২ জন নিহত হন—ধর্মতাত্ত্বিক মহলের মধ্যে ‘শেষ দিনের’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল নীতি হলো যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু যুদ্ধকে ‘দৈব নির্দেশিত’ হিসেবে দেখলে পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প কৌশল বা কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকর হওয়া দুষ্কর। কমান্ডাররা যদি শান্তি প্রস্তাবকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরোধিতা’ মনে করেন, তবে তারা সত্যিকারের তথ্য উপেক্ষা করতে পারেন, যা সামরিক বাহিনীর জন্য মারাত্মক হুমকি।

পেন্টাগনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও ধর্মীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ উচ্চপদস্থ বৈঠকে ধর্মভিত্তিক ভাষা ব্যবহার করছেন, যা নীচুতলার কমান্ডারদের জন্য শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্বস্ত বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলো বৈজ্ঞানিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণের পরিবর্তে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়, তবে ইরান এবং মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক হতে পারে। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে যখন এক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপরে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

সূত্র/ডেইলি মেইল