সারাবিশ্ব
হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের অনুমোদন, মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজ নিষিদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাত্রা তীব্র হওয়ায় ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পরিকল্পনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো জাহাজের হরমুজ প্রণালীতে চলাচল নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় আর্থিক ব্যবস্থা ও রিয়ালভিত্তিক টোল সিস্টেম চালু করা, ইরানের সার্বভৌম ভূমিকা বাস্তবায়ন এবং প্রণালীর অপর প্রান্তে থাকা ওমানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ফার্স নিউজ এজেন্সি পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের ফি আদায় করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে যেসব জাহাজ তাদের প্রতিপক্ষ ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেসব দেশের জাহাজকে আরও বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
এদিকে সমুদ্র পর্যবেক্ষকদের মতে, এখনও প্রতিদিন কিছু জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করছে, যা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ তেহরানের অনুমোদিত নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করছে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান আরও ২০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।
অপরদিকে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উপসাগরে আটকে রয়েছে। সেগুলো মূলত ভারতের জন্য জ্বালানি বহন করে।
এছাড়া ভারতের পতাকাবাহী ১৮টি জাহাজ, যেগুলো এলপিজি, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহন করছে, সেগুলো হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে নোঙর করে আছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেছেন, ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে একটি ‘সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ’।