সারাবিশ্ব

এবার গাঁজা ব্যবসার ওপর ট্রাম্পের নজর


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম

এবার গাঁজা ব্যবসার ওপর ট্রাম্পের নজর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের কঠোর মাদক নীতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মারিজুয়ানা বা গাঁজাকে আর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হবে না; বরং তুলনামূলক কম বিপজ্জনক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই পদক্ষেপ এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশনার পর। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এতদিন ‘শিডিউল-১’ তালিকায় থাকা গাঁজা এখন ‘শিডিউল-৩’ শ্রেণিতে স্থান পাবে—যেখানে তুলনামূলক কম ঝুঁকির ওষুধ রাখা হয়।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের গাঁজা শিল্পে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটিতে বৈধ গাঁজা বিক্রির বাজার ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আইনগত এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে। এতদিন ‘২৮০-ই’ ধারার কারণে গাঁজা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যয় কর থেকে বাদ দিতে পারতেন না। নতুন ব্যবস্থায় তারা এই সুবিধা পাবেন, ফলে তাদের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

একই সঙ্গে বড় ব্যাংকগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে পারে। আগে ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে অর্থায়নে অনীহা দেখালেও এখন থেকে ঋণ পাওয়া সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে।

বড় ক্যানাবিস কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে এই পরিবর্তনকে সামনে রেখে তাদের কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। তারা নতুন বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে।

Screenshot_13.jpg

চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় গাঁজার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা আরও সহজ হবে। এর ফলে বায়োটেক ও ওষুধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণার পর শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্যানাবিস সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ৬ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, গাঁজার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হলে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থা আগামী ২৯ জুন থেকে এই পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। জনমত ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। যদিও এখনো ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হয়নি, তবুও এই উদ্যোগকে একটি বৈশ্বিক বিলিয়ন ডলারের শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।