সারাবিশ্ব

ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম

ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার
ছবিঃ সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে উদ্ধার করে, যা দেশজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

আজ বুধবার (০১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে টেনে বের করছেন। এ সময় উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। তিনি এ ঘটনাকে ‘আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের প্রয়োজন। নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্লিবারকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এ সময়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ছয় দিন পর ক্লিবারের জীবিত উদ্ধার হওয়া তাই অত্যন্ত বিরল ও আশাব্যঞ্জক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, সেখানে খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং মৌলিক সেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, সুরক্ষা ও জরুরি ত্রাণ নিশ্চিত করতে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম চাপে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এখনও জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের দাফন এবং নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য পরিবার।

সূত্র: বিবিসি