সারাবিশ্ব

ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী
ছবিঃ সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির লা গুয়াইরা শহরে ধসে পড়া একটি নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের প্রায় ২৯ ফুট নিচে আটকে ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী নিরাপত্তারক্ষী হারনান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। দীর্ঘ আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সফল উদ্ধার অভিযানে তাকে জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারের আগে গিলের স্ত্রী উসবিমার গঞ্জালেস বলেন, ভূমিকম্পের পর কেটেছে জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সময়। তিনি ভেবেছিলেন, তার স্বামী আর বেঁচে নেই। পরে তিনি জানতে পারেন, গিল জীবিত আছেন। এতে নতুন করে আশার আলো দেখেন তিনি। তার ভাষায়, ‘তিনি একজন বীরের মতো এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।’ তিনি জানান, বাড়িতে তাদের সন্তানরাও বাবার ফেরার অপেক্ষায় ছিল।

চিলি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংক্রিটের স্তূপের মাঝখানে থাকা একটি সরু ফাঁক দিয়ে গিলের আঙুল নড়ছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থাতেও তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। একটি সরু পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে নিয়মিত পানি, তরল খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্ধার শেষে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার মাথা ও কাঁধ বেরিয়ে আছে। তখন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল এবং একটি চোখ রক্তাভ দেখা যাচ্ছিল।

জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় দলের সদস্য সেবাস্টিয়ান মোকোরকা বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা। সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে বা তিন দিনকে জীবিত উদ্ধারের জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ হিসেবে ধরা হয়। এই সময় পার হওয়ার পর, বিশেষ করে পানি না পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।

কোস্টা রিকার রেড ক্রস জানায়, গত রোববার প্রথমবারের মতো তারা খবর পায় যে ‘গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে’ শপিং মলের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। এরপর রাডার, সোনার ও শব্দ শনাক্তকারী বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে উদ্ধারকারীরা একজন জীবিত ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত হন। পরবর্তী তিন দিন ধরে বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর নিরাপদ পথ তৈরি করে ধাপে ধাপে গিলকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কোস্টা রিকার রেড ক্রস।

এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।